...

এই খাবারগুলো খাওয়ার পরই জল খাচ্ছেন না তো! অজান্তেই নষ্ট করে ফেলছেন আপনার দাঁত

1769788254324
Spread the love

1769788254324

 

খাওয়া শেষ করেই জল খাওয়া আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর এই অভ্যাস দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এসব খাবার মুখের ভেতরে অ্যাসিডিক পরিবেশ তৈরি করে, যার ফলে দাঁতের এনামেল সাময়িকভাবে নরম হয়ে যায়। এই অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে জল খেলে এনামেল ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে।

দাঁতের এনামেল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

দাঁতের এনামেল হলো দাঁতের সবচেয়ে বাইরের শক্ত স্তর, যা দাঁতকে ক্ষয়, ব্যাকটেরিয়া ও ঠান্ডা–গরমের সংবেদনশীলতা থেকে রক্ষা করে। একবার এনামেল নষ্ট হলে তা আর ফিরে আসে না। তাই দাঁতের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য এনামেল রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

যে খাবারগুলো খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে জল খাওয়া উচিত নয়

 

১. টক ফল

লেবু, কমলা বা আমলকির মতো টক ফল খাওয়ার পর মুখের ভেতরে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অ্যাসিড দাঁতের এনামেলকে কিছু সময়ের জন্য নরম করে দেয়। ঠিক এই সময়ে যদি জল খাওয়া হয়, তাহলে অ্যাসিড দাঁতের উপর আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এনামেলের ক্ষয় দ্রুত হয়। এর ফলে দাঁতের উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং ভবিষ্যতে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

২. মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার

রসগোল্লা, মিষ্টি, চকোলেট বা কেক খাওয়ার পর মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া চিনি থেকে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অবস্থায় জল খেলে সেই অ্যাসিড দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে দাঁতের উপর প্রভাব ফেলে। এর ফল হিসেবে ক্যাভিটি, দাঁতে কালো দাগ এবং ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৩. সফট ড্রিঙ্কস ও কোল্ড ড্রিঙ্ক

সফট ড্রিঙ্ক নিজেই অত্যন্ত অ্যাসিডিক পানীয়। এগুলো খাওয়ার পর অনেকেই মুখ পরিষ্কার করার জন্য জল খান, কিন্তু এতে উপকারের বদলে ক্ষতিই বেশি হয়। কারণ জল অ্যাসিডকে ধুয়ে না ফেলে বরং দাঁতের এনামেলের ভেতরে ঢুকতে সাহায্য করে। ফলে এনামেল ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে যায় এবং দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে।

৪. ভিনেগারযুক্ত ও ঝাল-টক খাবার

চাট, ফুচকা, আচার বা ভিনেগার দেওয়া খাবার দাঁতের পিএইচ লেভেল হঠাৎ কমিয়ে দেয়। এই খাবারগুলোর পর সঙ্গে সঙ্গে জল খেলে দাঁতের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে দাঁতের উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

খাবার খাওয়ার পর সঠিক অভ্যাস কী হওয়া উচিত

অ্যাসিডিক বা চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর অন্তত ২০–৩০ মিনিট অপেক্ষা করে জল পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। এই সময়ের মধ্যে মুখের লালা স্বাভাবিকভাবে অ্যাসিডের প্রভাব কমিয়ে দেয়। চাইলে হালকা কুলি করা যেতে পারে, তবে সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ব্রাশ করা একেবারেই উচিত নয়।

জল খাওয়া নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, কিন্তু ভুল সময়ে জল খেলে তা দাঁতের ক্ষতির কারণ হতে পারে। কোন খাবারের পর কখন জল খাওয়া উচিত—এই ছোট সচেতনতাই আপনার দাঁতের এনামেলকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে পারে।

 

নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।

 

 


About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube


Spread the love

সকালের নিয়মিত প্রার্থনা/মন্ত্র পাঠের উপকারিতা

IMG 20260127
Spread the love

IMG 20260127

 

আধুনিক জীবনের দৌড়ঝাঁপে সকালটাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে অবহেলিত সময়। তাড়াহুড়ো করে ঘুম থেকে ওঠা, মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রাখা আর কাজের চিন্তায় দিন শুরু করা এখন প্রায় সবার অভ্যাস। এই অভ্যাসের মধ্যেই সকালের প্রার্থনা বা মন্ত্র পাঠ এক মুহূর্তের বিরতি এনে দেয়, যেখানে মানুষ নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পারে। দিনের শুরুতে মন শান্ত রেখে কিছুক্ষণ নীরব থাকা বা প্রার্থনায় মন দেওয়া মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করার একটি সহজ উপায়।

বাস্তব জীবনে সকালের প্রার্থনার প্রভাব অনেকটাই অনুভবযোগ্য। যারা নিয়মিত এই অভ্যাসে অভ্যস্ত, তারা দিনের কাজে তুলনামূলকভাবে বেশি মনোযোগী থাকেন। সকালে মন স্থির থাকলে অকারণ বিরক্তি, তাড়াহুড়ো বা উত্তেজনা কমে আসে। অফিস, পড়াশোনা বা সংসারের নানা দায়িত্বের মধ্যেও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়, যা সারাদিনের কাজের মান উন্নত করে।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও সকালের প্রার্থনা বা মন্ত্র পাঠের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। ধীরে ও ছন্দবদ্ধভাবে মন্ত্র উচ্চারণ করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রিত হয়, যার ফলে স্নায়ুতন্ত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, এমন অভ্যাস মানসিক চাপের জন্য দায়ী হরমোনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্ককে আরও শান্ত অবস্থায় নিয়ে যায়। তাই প্রার্থনা শুধু বিশ্বাসের বিষয় নয়, এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক মানসিক প্রশান্তির কৌশলও বটে।

আধ্যাত্মিক দিক থেকে সকালের প্রার্থনা মানুষের অন্তরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। নিয়মিত ঈশ্বরস্মরণ বা আত্মচিন্তার মাধ্যমে জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ তৈরি হয়। সুখ–দুঃখ, লাভ–ক্ষতির মতো বিষয়গুলিকে আরও পরিণত মানসিকতায় গ্রহণ করার ক্ষমতা গড়ে ওঠে। এই অভ্যাস মানুষের মধ্যে ধৈর্য, সহানুভূতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের গুণ বাড়াতে সাহায্য করে।

দিনের শুরুতেই প্রার্থনার মাধ্যমে ইতিবাচক চিন্তার চর্চা হলে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। ছোট ছোট সমস্যাকেও তখন আর বড় বলে মনে হয় না। নিজের ভিতরের শক্তির উপর বিশ্বাস তৈরি হয় এবং আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে দৃঢ় হয়। এর ফলে জীবনের কঠিন সময়েও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার প্রবণতা কমে যায়।

শেষে বলা যায়, সকালের নিয়মিত প্রার্থনা বা মন্ত্র পাঠ কোনো কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং নিজের মন ও জীবনের প্রতি যত্ন নেওয়ার এক সহজ অভ্যাস। এর বাস্তবিক, বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক—তিন দিকই মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও যদি কয়েক মিনিট এই অভ্যাসের জন্য আলাদা করা যায়, তবে ধীরে ধীরে তা মানসিক শান্তি, স্থিরতা ও ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়ে ওঠে।

নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।

 


About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube


Spread the love

কোনদিকে করবেন রান্নাঘর – বাড়ির জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা

IMG 20260119
Spread the love

IMG 20260119

 

মানুষের বসতবাড়িতে রান্নাঘর সব সময়ই একটি বিশেষ স্থান দখল করে এসেছে। প্রাচীন ভারতীয় গৃহস্থালিতে রান্নাঘরকে শুধুমাত্র খাদ্য প্রস্তুতির জায়গা হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে পরিবারের প্রাণশক্তির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বৈদিক যুগে অগ্নিকে দেবতার মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, আর সেই অগ্নির নিয়মিত অবস্থান ছিল গৃহের রান্নাঘর। তাই এই জায়গাটির অবস্থান, দিক ও শুদ্ধতা নিয়ে তখন থেকেই নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি হয়।

বাস্তু অনুযায়ী রান্নাঘরের জন্য দক্ষিণ–পূর্ব দিককে শ্রেষ্ঠ বলা হয়, কারণ এই দিকটি অগ্নির স্বাভাবিক প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত। সূর্যের গতিপথ অনুযায়ী দিনের প্রথম তাপ ও আলো এই দিকেই বেশি পড়ে। প্রাচীন মানুষরা যদিও আধুনিক জ্যামিতি জানত না, কিন্তু তারা প্রকৃতির ছন্দ বুঝে ঘর বানাত। রান্নাঘরকে এমন জায়গায় রাখা হত, যাতে আগুনের তাপ বাড়ির বাকি অংশে অস্বস্তি তৈরি না করে এবং ধোঁয়া সহজে বেরিয়ে যেতে পারে।

এই বাস্তু ভাবনার সঙ্গে বৈজ্ঞানিক যুক্তিও ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়। রান্নার সময় তাপ, ধোঁয়া, তেলকণা ও জলীয় বাষ্প তৈরি হয়, যা যদি দীর্ঘ সময় আটকে থাকে তাহলে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, চোখে জ্বালা ও ছত্রাকের জন্ম দিতে পারে। সূর্যালোক ও বাতাস চলাচল থাকা রান্নাঘরে এই সমস্যা অনেক কম হয়। আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞান আজ যে ভেন্টিলেশন ও ন্যাচারাল লাইটের কথা বলে, তা আসলে প্রাচীন গৃহপরিকল্পনার অভিজ্ঞতারই আধুনিক ভাষ্য।

রান্নাঘরের সঙ্গে মানসিক অবস্থার সম্পর্কও গভীর। প্রতিদিনের খাবার তৈরি হয় এখানে, আর খাবার মানেই যত্ন ও সম্পর্কের প্রকাশ। অন্ধকার, গরম ও বিশৃঙ্খল রান্নাঘরে কাজ করলে মানুষ অজান্তেই ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়ে, যার প্রভাব খাবারের উপরও পড়ে। অন্যদিকে পরিষ্কার, আলো–বাতাসপূর্ণ রান্নাঘরে রান্না করলে মন শান্ত থাকে, ধৈর্য বাড়ে। তাই প্রাচীন প্রথায় রান্নার আগে হাত-মুখ ধোয়া, চুল বেঁধে নেওয়া বা নীরব থাকার ধারণাগুলো আসলে মানসিক প্রস্তুতিরই অংশ।

রান্নাঘরে আগুন ও জলের আলাদা অবস্থান নিয়েও বহু নিয়ম দেখা যায়। বাস্তুতে এটাকে বিপরীত শক্তির ভারসাম্য বলা হলেও, দৈনন্দিন ব্যবহারে এর ব্যবহারিক গুরুত্ব স্পষ্ট। চুলার পাশে জল থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, আবার ভেজা জায়গায় আগুনের কাজ অস্বস্তিকর হয়। তাই কাজের সুবিধা ও নিরাপত্তার জন্যই এই বিভাজন দীর্ঘদিন ধরে মানা হয়ে আসছে।

প্রাচীন গ্রামবাংলায় রান্নাঘর সাধারণত একটু নিচু ও আলাদা ঘরে হত। এর কারণ শুধু সামাজিক নয়, পরিবেশগতও ছিল। নিচু ঘরে তাপ জমে থাকত না, আর রান্নার ধোঁয়া সহজে বাইরে চলে যেত। রান্নাঘরে গবাদিপশুর গোবর দিয়ে লেপ দেওয়া হত, যা জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করত এবং পোকামাকড় দূরে রাখত। আজ যাকে আমরা হাইজিন বলি, তখন সেটাই ছিল দৈনন্দিন অভ্যাস।

আজকের আধুনিক ফ্ল্যাটেও রান্নাঘরের গুরুত্ব কমেনি, শুধু রূপ বদলেছে। চিমনি, এক্সহস্ট ফ্যান, সানলাইট—সবকিছু মিলিয়ে আমরা আসলে সেই পুরনো ধারণাগুলোকেই নতুন প্রযুক্তিতে ব্যবহার করছি। তাই রান্নাঘর সংক্রান্ত নিয়মগুলো কুসংস্কার নয়, বরং মানুষের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনের ফল।

এই কারণে রান্নাঘরকে শুধুমাত্র বাস্তু বা বিজ্ঞান দিয়ে বিচার করলে পুরো ছবিটা ধরা পড়ে না। এখানে আছে প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জ্ঞান, আছে শরীরের সুস্থতার চিন্তা, আছে মনের শান্তির প্রয়োজন। রান্নাঘর তাই শুধু খাবার তৈরির জায়গা নয়—এটি একটি বাড়ির নীরব কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন জীবন গড়ে ওঠে।

নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।

 


About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube


Spread the love
Skip to toolbar