খাওয়া শেষ করেই জল খাওয়া আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর এই অভ্যাস দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এসব খাবার মুখের ভেতরে অ্যাসিডিক পরিবেশ তৈরি করে, যার ফলে দাঁতের এনামেল সাময়িকভাবে নরম হয়ে যায়। এই অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে জল খেলে এনামেল ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে।
দাঁতের এনামেল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
দাঁতের এনামেল হলো দাঁতের সবচেয়ে বাইরের শক্ত স্তর, যা দাঁতকে ক্ষয়, ব্যাকটেরিয়া ও ঠান্ডা–গরমের সংবেদনশীলতা থেকে রক্ষা করে। একবার এনামেল নষ্ট হলে তা আর ফিরে আসে না। তাই দাঁতের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য এনামেল রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
যে খাবারগুলো খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে জল খাওয়া উচিত নয়
১. টক ফল
লেবু, কমলা বা আমলকির মতো টক ফল খাওয়ার পর মুখের ভেতরে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অ্যাসিড দাঁতের এনামেলকে কিছু সময়ের জন্য নরম করে দেয়। ঠিক এই সময়ে যদি জল খাওয়া হয়, তাহলে অ্যাসিড দাঁতের উপর আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এনামেলের ক্ষয় দ্রুত হয়। এর ফলে দাঁতের উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং ভবিষ্যতে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।
২. মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার
রসগোল্লা, মিষ্টি, চকোলেট বা কেক খাওয়ার পর মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া চিনি থেকে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অবস্থায় জল খেলে সেই অ্যাসিড দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে দাঁতের উপর প্রভাব ফেলে। এর ফল হিসেবে ক্যাভিটি, দাঁতে কালো দাগ এবং ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৩. সফট ড্রিঙ্কস ও কোল্ড ড্রিঙ্ক
সফট ড্রিঙ্ক নিজেই অত্যন্ত অ্যাসিডিক পানীয়। এগুলো খাওয়ার পর অনেকেই মুখ পরিষ্কার করার জন্য জল খান, কিন্তু এতে উপকারের বদলে ক্ষতিই বেশি হয়। কারণ জল অ্যাসিডকে ধুয়ে না ফেলে বরং দাঁতের এনামেলের ভেতরে ঢুকতে সাহায্য করে। ফলে এনামেল ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে যায় এবং দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. ভিনেগারযুক্ত ও ঝাল-টক খাবার
চাট, ফুচকা, আচার বা ভিনেগার দেওয়া খাবার দাঁতের পিএইচ লেভেল হঠাৎ কমিয়ে দেয়। এই খাবারগুলোর পর সঙ্গে সঙ্গে জল খেলে দাঁতের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে দাঁতের উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
খাবার খাওয়ার পর সঠিক অভ্যাস কী হওয়া উচিত
অ্যাসিডিক বা চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর অন্তত ২০–৩০ মিনিট অপেক্ষা করে জল পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। এই সময়ের মধ্যে মুখের লালা স্বাভাবিকভাবে অ্যাসিডের প্রভাব কমিয়ে দেয়। চাইলে হালকা কুলি করা যেতে পারে, তবে সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ব্রাশ করা একেবারেই উচিত নয়।
জল খাওয়া নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, কিন্তু ভুল সময়ে জল খেলে তা দাঁতের ক্ষতির কারণ হতে পারে। কোন খাবারের পর কখন জল খাওয়া উচিত—এই ছোট সচেতনতাই আপনার দাঁতের এনামেলকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে পারে।
নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।
About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more •
Official Blog •
YouTube


