...

সকালের নিয়মিত প্রার্থনা/মন্ত্র পাঠের উপকারিতা

Spread the love

IMG 20260127

 

আধুনিক জীবনের দৌড়ঝাঁপে সকালটাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে অবহেলিত সময়। তাড়াহুড়ো করে ঘুম থেকে ওঠা, মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রাখা আর কাজের চিন্তায় দিন শুরু করা এখন প্রায় সবার অভ্যাস। এই অভ্যাসের মধ্যেই সকালের প্রার্থনা বা মন্ত্র পাঠ এক মুহূর্তের বিরতি এনে দেয়, যেখানে মানুষ নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পারে। দিনের শুরুতে মন শান্ত রেখে কিছুক্ষণ নীরব থাকা বা প্রার্থনায় মন দেওয়া মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করার একটি সহজ উপায়।

বাস্তব জীবনে সকালের প্রার্থনার প্রভাব অনেকটাই অনুভবযোগ্য। যারা নিয়মিত এই অভ্যাসে অভ্যস্ত, তারা দিনের কাজে তুলনামূলকভাবে বেশি মনোযোগী থাকেন। সকালে মন স্থির থাকলে অকারণ বিরক্তি, তাড়াহুড়ো বা উত্তেজনা কমে আসে। অফিস, পড়াশোনা বা সংসারের নানা দায়িত্বের মধ্যেও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়, যা সারাদিনের কাজের মান উন্নত করে।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও সকালের প্রার্থনা বা মন্ত্র পাঠের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। ধীরে ও ছন্দবদ্ধভাবে মন্ত্র উচ্চারণ করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রিত হয়, যার ফলে স্নায়ুতন্ত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, এমন অভ্যাস মানসিক চাপের জন্য দায়ী হরমোনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্ককে আরও শান্ত অবস্থায় নিয়ে যায়। তাই প্রার্থনা শুধু বিশ্বাসের বিষয় নয়, এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক মানসিক প্রশান্তির কৌশলও বটে।

আধ্যাত্মিক দিক থেকে সকালের প্রার্থনা মানুষের অন্তরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। নিয়মিত ঈশ্বরস্মরণ বা আত্মচিন্তার মাধ্যমে জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ তৈরি হয়। সুখ–দুঃখ, লাভ–ক্ষতির মতো বিষয়গুলিকে আরও পরিণত মানসিকতায় গ্রহণ করার ক্ষমতা গড়ে ওঠে। এই অভ্যাস মানুষের মধ্যে ধৈর্য, সহানুভূতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের গুণ বাড়াতে সাহায্য করে।

দিনের শুরুতেই প্রার্থনার মাধ্যমে ইতিবাচক চিন্তার চর্চা হলে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। ছোট ছোট সমস্যাকেও তখন আর বড় বলে মনে হয় না। নিজের ভিতরের শক্তির উপর বিশ্বাস তৈরি হয় এবং আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে দৃঢ় হয়। এর ফলে জীবনের কঠিন সময়েও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার প্রবণতা কমে যায়।

শেষে বলা যায়, সকালের নিয়মিত প্রার্থনা বা মন্ত্র পাঠ কোনো কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং নিজের মন ও জীবনের প্রতি যত্ন নেওয়ার এক সহজ অভ্যাস। এর বাস্তবিক, বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক—তিন দিকই মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও যদি কয়েক মিনিট এই অভ্যাসের জন্য আলাদা করা যায়, তবে ধীরে ধীরে তা মানসিক শান্তি, স্থিরতা ও ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়ে ওঠে।

নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।

 


About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube


Spread the love

Leave a Reply

Skip to toolbar