...

খালি পায়ে উঠোনে হাঁটা: গ্রাম্য অভ্যাসের আড়ালে থাকা শরীর ও প্রকৃতির বিজ্ঞান

Spread the love

111226599.cms

 

গ্রামে সকালে উঠেই খালি পায়ে উঠোনে হাঁটার যে অভ্যাসটা ছিল, সেটাকে আমরা অনেক সময় গরিবি বা সেকেলে ভাবি। কিন্তু এই অভ্যাসটা আদতে কোনও অভাব থেকে আসেনি, এসেছে জীবনের সঙ্গে প্রকৃতির সরাসরি যোগাযোগ থেকে। মাটির স্পর্শে দিন শুরু করা মানে শুধু হাঁটা নয়, শরীর আর মনের প্রস্তুতির এক প্রাচীন পদ্ধতি।

ভোরের উঠোন তখনো ঠান্ডা, শিশিরে ভেজা। খালি পায়ে সেই মাটিতে দাঁড়ালেই শরীরের ভেতর একটা ধীরে জেগে ওঠা অনুভূতি কাজ করে। গ্রামে কেউ একে নাম দেয়নি, কিন্তু শরীর তখন নিজে থেকেই স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় করে। পায়ের তালুতে থাকা অসংখ্য স্নায়ু সরাসরি মাটির তাপমাত্রা আর স্পর্শ গ্রহণ করে, যার প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

এই হাঁটা কখনো তাড়াহুড়োর ছিল না। ধীরে ধীরে উঠোনে এক চক্কর, তারপর আরেকটা। এই ধীর গতিটাই ছিল আসল কথা। এতে শ্বাস স্বাভাবিক হয়, মন ধীরে ধীরে দিনের কাজে ঢুকে পড়ে। আজকের ভাষায় যাকে আমরা “গ্রাউন্ডিং” বা “মাইন্ডফুলনেস” বলি, গ্রাম্য জীবনে সেটা ছিল স্বাভাবিক সকালবেলার কাজ।

উঠোনের মাটি তখন শুধু মাটি নয়। সেখানে গোবর জল পড়েছে, রোদ লেগেছে, বাতাস খেলেছে। এই পরিবেশে হাঁটার ফলে পায়ের ত্বক শক্ত হয়, ছোটখাটো জীবাণুর সঙ্গে শরীর পরিচিত হয়, আর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে তৈরি হয়। তাই গ্রামে ছোটখাটো সংক্রমণ হলেও শরীর সহজে সামলে নিত—এটা কোনও কাকতাল নয়।

খালি পায়ে হাঁটার আরেকটা দিক ছিল মানসিক। জুতো ছাড়া মানে কোনও রক্ষা-কবচ ছাড়া প্রকৃতির সামনে দাঁড়ানো। এতে অহংকার কমে, মন স্থির হয়। গ্রামের মানুষ সকালে উঠেই মোবাইল বা খবরের শব্দে ঢুকত না, আগে মাটির সঙ্গে যুক্ত হতো। এই সংযোগটাই দিনের মানসিক ভারসাম্য তৈরি করত।

আজ আমরা যোগা ম্যাটে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির কথা বলি, অথচ সেই প্রকৃতি একসময় আমাদের উঠোনেই ছিল। খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাসটা হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আসলে ধীরে চলা, অনুভব করা আর নিজের শরীরকে শোনা—এই তিনটেই হারিয়েছি।

এই অভ্যাস কুসংস্কার ছিল না, ছিল জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সহজ বুদ্ধি। হয়তো আজ শহরে সেই উঠোন নেই, কিন্তু বারান্দা, ছাদ বা পার্কে কয়েক মিনিট খালি পায়ে দাঁড়ানোও সেই পুরনো জ্ঞানের সঙ্গে আবার যোগাযোগ তৈরি করতে পারে—নীরবে, ধীরে, নিজের মতো করে।

 

নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।

 


About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube


Spread the love

Leave a Reply

Skip to toolbar