...

ঘরের রং মানুষের মুড ও ঘুমে কীভাবে প্রভাব ফেলে: কুসংস্কার নয়, বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা

Images (1) (17)
Images (1) (17)
অনেক সময় আমরা বাড়ি রং করার সময় শুধু “সুন্দর দেখাবে” এই দিকটাই ভাবি। কিন্তু বাস্তবে ঘরের রং আমাদের মনের অবস্থা, ঘুমের মান এবং দৈনন্দিন আচরণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। আগে মানুষ এগুলোকে অনুভব করত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, আজ বিজ্ঞান সেই অনুভূতির ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
ঘরের রং কেবল দেয়াল সাজানোর বিষয় নয়, এটি আমাদের মস্তিষ্কে একধরনের বার্তা পাঠায়।
রং কীভাবে আমাদের মস্তিষ্কে কাজ করে
 
মানুষের চোখ রং দেখার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কে কিছু নির্দিষ্ট হরমোন ও অনুভূতি সক্রিয় হয়।
কিছু রং আমাদের শান্ত করে, কিছু রং উত্তেজিত করে, আবার কিছু রং দীর্ঘ সময় থাকলে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
এই কারণেই একই ঘরে থেকেও কেউ আরাম পায়, আবার কেউ অকারণে অস্থির বোধ করে।
ঘরের বিভিন্ন রং ও তাদের প্রভাব
১. হালকা নীল ও আকাশি রং
এই রংগুলো মস্তিষ্ককে শান্ত থাকার সংকেত দেয়।
প্রভাব:
মানসিক চাপ কমায়
ঘুম গভীর করতে সাহায্য করে
হার্টবিট ও শ্বাসের গতি ধীর করে
👉 বেডরুম ও পড়ার ঘরের জন্য খুব ভালো।
২. সবুজ রং
সবুজ চোখের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক রং।
প্রভাব:
চোখের ক্লান্তি কমায়
দীর্ঘ সময় ঘরে থাকলেও বিরক্তি আসে না
মনকে স্থিতিশীল রাখে
👉 লিভিং রুম বা স্টাডি রুমে উপযোগী।
৩. সাদা ও অফ-হোয়াইট
অনেকে মনে করেন সাদা রং ঠান্ডা বা নিষ্প্রাণ, কিন্তু বাস্তবে—
প্রভাব:
ঘরকে বড় ও পরিষ্কার মনে করায়
মস্তিষ্কে হালকাভাব আনে
অতিরিক্ত ভিজুয়াল চাপ কমায়
👉 ছোট ঘর বা কম আলোয় ভালো কাজ করে।
৪. গাঢ় লাল বা উজ্জ্বল হলুদ
এই রংগুলো অনেক সময় ভুল জায়গায় ব্যবহার করা হয়।
প্রভাব:
উত্তেজনা বাড়ায়
দীর্ঘ সময় থাকলে অস্থিরতা তৈরি করে
ঘুমের সমস্যা হতে পারে
👉 বেডরুমে এড়ানো ভালো, তবে অল্প অ্যাকসেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. ধূসর (গ্রে) রং
আধুনিক ঘরে খুব জনপ্রিয় হলেও—
প্রভাব:
বেশি হলে মন ভারী লাগে
দীর্ঘ সময় থাকলে বিষণ্ণতা বাড়াতে পারে
👉 গ্রে রঙের সঙ্গে সাদা বা হালকা রং মেশানো ভালো
সাদা, নীল বা সবুজের বাইরে আরও কিছু রঙের শেড আছে যেগুলো ঘরের পরিবেশে নীরবে কিন্তু গভীর প্রভাব ফেলে। যেমন বেইজ ও ক্রিম শেড ঘরকে উষ্ণ ও স্বাভাবিক অনুভূতি দেয়, দীর্ঘ সময় থাকলেও চোখে বা মনে চাপ পড়ে না। হালকা গোলাপি বা ব্লাশ শেড আবেগকে নরম করে, অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করে এবং ঘুমের ঘরে একধরনের নিরাপদ অনুভূতি তৈরি করে। ল্যাভেন্ডার ও হালকা বেগুনি মানসিক ক্লান্তি কমায় ও চিন্তাকে ধীর করে, তাই পড়ার ঘর বা বিশ্রামের জায়গায় এই রঙ মানানসই। মাটির কাছাকাছি হালকা বাদামি শেড ঘরে স্থিরতা ও গ্রাউন্ডেড ভাব আনে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি মানসিক আরাম দেয়। আবার প্যাস্টেল শেডগুলো উজ্জ্বল রঙের সফট ভার্সন হওয়ায় ঘরকে হালকা, খোলা ও ফ্রেশ মনে করায়—এগুলো ছোট ঘর বা কম আলোয় থাকা ঘরের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
ঘুমের সঙ্গে রঙের সরাসরি সম্পর্ক
বিজ্ঞান বলছে—
শান্ত রং → মেলাটোনিন হরমোন ঠিকভাবে নিঃসৃত হয়
উত্তেজক রং → ঘুম আসতে দেরি হয়
এই কারণেই অনেক বাড়িতে রং বদলানোর পর মানুষ বলে,
“ঘুমটা আগের চেয়ে ভালো হচ্ছে” বা “এই ঘরে শান্ত লাগে”।
এটা কল্পনা নয়—এটা মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া।
রং নির্বাচন করার সময় কিছু বাস্তব টিপস
ছোট ঘরে হালকা রং ব্যবহার করুন
বেডরুমে ঠান্ডা ও শান্ত রং বেছে নিন
খুব উজ্জ্বল রং পুরো দেয়ালে না দিয়ে এক পাশে ব্যবহার করুন
আলো ও রঙের ব্যালান্স রাখুন
যে রং দেখলে চোখে আরাম লাগে, সেটাই সবচেয়ে ভালো।
ঘরের রং শুধু সাজসজ্জা নয়, এটি আমাদের মনের ভাষা বোঝার একটি মাধ্যম।
আগের প্রজন্ম এই বিষয়গুলো কুসংস্কার বা “ভালো লাগে–খারাপ লাগে” বলে ব্যাখ্যা করলেও, আজ আমরা জানি—এর পেছনে আছে পরিষ্কার বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
সঠিক রং বেছে নিলে ঘর শুধু সুন্দর নয়, মানসিকভাবে আরামদায়কও হয়ে ওঠে।
নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।

About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube

Skip to toolbar