বাংলার খাবারের কথা উঠলেই প্রথমেই মনে আসে গরম ভাত। আবার অনেকেই মনে করেন, সুস্থ থাকতে বা ওজন কমাতে ভাত ছেড়ে রুটি খাওয়াই ভালো। কিন্তু সত্যিই কি ভাত খারাপ আর রুটি ভালো? নাকি বিষয়টি এতটা সহজ নয়?
আসলে ভাত এবং রুটি—দুটোই আমাদের শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। পার্থক্য শুধু তাদের পুষ্টিগুণ, হজমের গতি এবং শরীরে প্রভাবের মধ্যে।
প্রথমেই আসা যাক ওজনের প্রসঙ্গে। ভাতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি এবং ফাইবার তুলনামূলক কম, বিশেষ করে সাদা ভাতে। তাই বেশি ভাত খেলে দ্রুত ক্যালোরি জমতে পারে। অন্যদিকে আটার রুটিতে ফাইবার বেশি থাকায় তা ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে যারা ওজন কমাতে চান, তারা সাধারণত রুটিকেই বেশি বেছে নেন।
তবে হজমের দিক থেকে ভাতের সুবিধা আলাদা। গরম ভাত সহজে হজম হয় এবং পেটের ওপর চাপ কম ফেলে। অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ বা যাদের হজম শক্তি দুর্বল—তাদের জন্য ভাত অনেক সময় বেশি উপযোগী। রুটি তুলনামূলক ভারী হওয়ায় সবার পক্ষে সহজে হজম নাও হতে পারে।
রক্তে শর্করার ওপর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাদা ভাত দ্রুত রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়ায়, কারণ এটি দ্রুত ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। আটার রুটি ধীরে হজম হয়, ফলে সুগার ধীরে বাড়ে। এই কারণেই ডায়াবেটিস থাকলে অনেক চিকিৎসক ভাত কমিয়ে রুটি খাওয়ার পরামর্শ দেন।
শক্তির দিক থেকেও দুটির ভূমিকা আলাদা। ভাত দ্রুত শক্তি জোগায়, তাই শারীরিক পরিশ্রম বা কাজের আগে ভাত খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। রুটি ধীরে শক্তি দেয় কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সেই শক্তি বজায় রাখে।
তবে সব ভাত বা সব রুটি এক রকম নয়। লাল চাল বা ব্রাউন রাইস সাদা ভাতের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর। একইভাবে ময়দার রুটির চেয়ে আটার বা বহু শস্যের রুটি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, ভাত বা রুটি—কোনোটাই একেবারে ভালো বা খারাপ নয়। আপনার শরীরের প্রয়োজন, কাজের ধরন, হজমশক্তি এবং রোগের অবস্থা অনুযায়ী সঠিক নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। পরিমিত পরিমাণে খেলে দুটিই সুস্থ জীবনের অংশ হতে পারে। আপনি দুপুরে ভাত ও রাতে রুটি এই নিয়মেও চলতে পারেন এতে আপনার পুষ্টিগুণ বজায় থাকবে।
নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।
About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more •
Official Blog •
YouTube



