...

প্রদীপ কোন দিকে মুখ করে জ্বালানো উচিত?

Eisamay 2025 10 15 x1yzdumj Diya Lit Rituals

Eisamay 2025 10 15 x1yzdumj Diya Lit Rituals

 

প্রদীপ জ্বালানো আমাদের ঘরের একেবারে নিত্যদিনের রীতি। সকাল–সন্ধ্যা ঠাকুরঘরে, বিশেষ দিন, পূজা-পার্বণ কিংবা শুভ কাজে প্রদীপ জ্বালানো হয়। কিন্তু খুব কম মানুষই ভেবে দেখে—প্রদীপ কোন দিকে মুখ করে জ্বালানো উচিত এবং কেন এই বিষয়টাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের বিশ্বাস, বাস্তুশাস্ত্র ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে।

বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী প্রদীপের সঠিক দিক

বাস্তুশাস্ত্রে আগুন বা আলোকে শক্তির প্রতীক বলা হয়। তাই প্রদীপ জ্বালানোর দিক খুব গুরুত্বপূর্ণ।
• পূর্ব দিকে মুখ করে প্রদীপ জ্বালানো সবচেয়ে শুভ বলা হয়
সূর্যোদয়ের দিক হওয়ায় পূর্ব দিক শক্তি, জ্ঞান ও নতুন সূচনার প্রতীক
• উত্তর বা উত্তর–পূর্ব দিকও শুভ
এই দিককে ঈশান কোণ বলা হয়, যা পবিত্রতা ও মানসিক শান্তির সঙ্গে যুক্ত
এই দুই দিকে প্রদীপ জ্বালালে ঘরের শক্তির ভারসাম্য ভালো থাকে বলে বিশ্বাস।

কোন দিক এড়িয়ে চলা ভালো

বাস্তুশাস্ত্র মতে—
• দক্ষিণ দিকে মুখ করে প্রদীপ জ্বালানো সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়
এই দিককে ভারী ও স্থির শক্তির দিক বলা হয়
• বাতাসের ঠিক বিপরীতে প্রদীপ রাখা উচিত নয়
কারণ বারবার নিভে যাওয়া অশুভ বলে ধরা হয়

ঘরোয়া ও ধর্মীয় বিশ্বাস

লোকবিশ্বাসে বলা হয়—
• প্রদীপ মানে অন্ধকার দূর করা
• ভুল দিকে প্রদীপ জ্বালালে পূজার ফল পুরো আসে না
• সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালালে ঘরে শান্তি ও শুভ শক্তি প্রবেশ করে
এই বিশ্বাসের মাধ্যমে মানুষকে নিয়মিত আলো জ্বালানো ও ঘর পরিচ্ছন্ন রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

বিজ্ঞান এই রীতিকে বাস্তব দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করে—
• পূর্ব বা উত্তর দিকে সাধারণত বাতাসের প্রবাহ কম থাকে, ফলে প্রদীপ স্থিরভাবে জ্বলে
• আলো মানুষের মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে
• সন্ধ্যার নরম আলো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে
এই কারণে প্রদীপ জ্বালানো মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই শান্ত করে।

মনস্তাত্ত্বিক দিক

প্রদীপ জ্বালানো একটি মনোযোগী কাজ।
• দিনের ব্যস্ততা থেকে মনকে আলাদা করে
• নিজের মধ্যে স্থিরতা আনে
• প্রার্থনার সময় মন একাগ্র হয়
এই মানসিক অবস্থাই মানুষ “শুভ ফল” হিসেবে অনুভব করে।

প্রদীপ জ্বালানোর সময় আর কী বিষয় খেয়াল রাখা হয়?

• প্রদীপ পরিষ্কার জায়গায় রাখা
• ভাঙা বা নোংরা প্রদীপ ব্যবহার না করা
• সন্ধ্যার পর প্রদীপ নিভিয়ে না ফেলা
• তেল বা ঘি শেষ হয়ে গেলে জোর করে জ্বালানো না রাখা
এসব নিয়ম ঘরোয়া শৃঙ্খলারই অংশ।

 

প্রদীপ কোন দিকে মুখ করে জ্বালানো উচিত—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু কুসংস্কার নয়।
এটি বাস্তুশাস্ত্রের শক্তির ধারণা, পরিবেশগত সুবিধা এবং মানুষের মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে প্রদীপ জ্বালানো মানে— ঘরে আলো আনা, মনে শান্তি আনা এবং প্রতিদিনের জীবনে একটু থেমে নিজের সঙ্গে সময় কাটানো।

নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।

 


About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube

শুনে আসা এক পুরনো নিয়ম: তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়া ঠিক নয় কেন! কি কারণ?

Benefits of Tulsi Uses Precaution Side effects of Tulsi Leaves Plant

Benefits of Tulsi Uses Precaution Side effects of Tulsi Leaves Plant

 

আমাদের ঘরে তুলসী পাতা খুব পবিত্র বলে মানা হয়। ঠাকুরের ভোগে, ওষুধ হিসেবে বা কাশি–সর্দিতে তুলসী পাতার ব্যবহার আমরা সকলেই জানি। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই একটা কথা শুনে আসছি—“তুলসী পাতা চিবিয়ে খাস না”। অনেকেই এই নিয়ম মেনে চলি, কিন্তু এর কারণ ঠিকভাবে জানা থাকে না। এই নিষেধের পেছনে রয়েছে আধ্যাত্মিক ধারণা, ঘরোয়া সংস্কৃতি এবং কিছু বৈজ্ঞানিক যুক্তি।

আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী তুলসী শুধুই একটি গাছ নয়, তুলসীকে দেবী রূপে কল্পনা করা হয়।
• তুলসী পাতাকে প্রসাদ হিসেবে ধরা হয়
• চিবিয়ে খাওয়া মানে দাঁত দিয়ে কাটা, যা অশ্রদ্ধা হিসেবে ধরা হয়
• তুলসী পাতা ভক্ষণ করা উচিত গিলে বা জলে মিশিয়ে
বিশ্বাস করা হয়, তুলসী বিষ্ণুর প্রিয়। তাই যেভাবে প্রসাদকে সম্মান করে গ্রহণ করা হয়, ঠিক সেভাবেই তুলসী পাতাও গ্রহণ করা উচিত।

ঘরোয়া বিশ্বাস ও লোকসংস্কৃতি

লোকবিশ্বাসে বলা হয়—
• তুলসী চিবিয়ে খেলে পাপ লাগে
• এতে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়
• গাছের পবিত্রতা নষ্ট হয়
এই বিশ্বাসগুলোর মাধ্যমে মূলত তুলসী পাতার প্রতি সম্মান বজায় রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

বিজ্ঞান এই নিষেধের পেছনে বাস্তব কারণ খুঁজে পেয়েছে।
• তুলসী পাতায় থাকে Mercury (পারদ) জাতীয় উপাদান
• চিবিয়ে খেলে এটি দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করতে পারে
• দীর্ঘদিন চিবিয়ে খেলে দাঁত দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
এই কারণেই আধুনিক আয়ুর্বেদেও বলা হয়—তুলসী পাতা চিবিয়ে নয়, গিলে বা রস করে খাওয়া ভালো।

আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিভঙ্গি

আয়ুর্বেদ মতে—
• তুলসী শরীরের দোষনাশক
• কিন্তু এটি তীক্ষ্ণ ও উষ্ণ প্রকৃতির
• অতিরিক্ত বা ভুলভাবে গ্রহণ করলে শরীরে শুষ্কতা বাড়াতে পারে
তাই তুলসী পাতার সঠিক ব্যবহার শেখানোর জন্যই এই নিয়ম চালু হয়েছে।

মনস্তাত্ত্বিক দিক

এই নিষেধ মানুষের মধ্যে—
• সংযম
• নিয়ম মেনে চলা
• পবিত্র জিনিসের প্রতি শ্রদ্ধা
এই মানসিকতা গড়ে তোলে। ছোটবেলা থেকেই “না চিবো” শেখানো মানে, সব জিনিস ইচ্ছেমতো ব্যবহার করা যায় না—এই বোধ তৈরি করা।

তাহলে কীভাবে তুলসী পাতা খাওয়া উচিত?

ঘরোয়া ও আয়ুর্বেদিক মতে—
• সকালে খালি পেটে
• ভালো করে ধুয়ে
• চিবিয়ে নয়, গিলে
• বা জলে ভিজিয়ে বা রস করে

এভাবে গ্রহণ করলেই তুলসীর উপকার পাওয়া যায়।

 

তুলসী পাতা চিবিয়ে না খাওয়ার নিয়মটি কুসংস্কার নয়।
এটি একদিকে যেমন আধ্যাত্মিক শ্রদ্ধার প্রকাশ, তেমনই অন্যদিকে দাঁত ও শরীর রক্ষার একটি বাস্তব পদ্ধতি।
পুরনো মানুষের অভিজ্ঞতা থেকেই এই নিয়ম এসেছে, যা আজও আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে অনেকটাই যুক্তিযুক্ত বলে প্রমাণিত।

নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।


About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube

ঘরে তুলসী মন্দির রাখার সঠিক দিক কোনটি? কি বলছে বাস্তুশাস্ত্র!

Images (29)

Images (29)

বাঙালি ও ভারতীয় হিন্দু ঘরে তুলসী মন্দির শুধু একটি গাছ নয়, এটি ঘরের পবিত্রতা, শান্তি ও সুস্থতার প্রতীক। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তুলসী মন্দির থাকে, কিন্তু অনেকেই জানেন না—তুলসী মন্দির ঘরের কোন দিকে রাখলে শুভ হয় এবং কেন সেই দিককেই শ্রেষ্ঠ বলা হয়। এই ধারণার পেছনে রয়েছে বাস্তুশাস্ত্রের নীতি, বহু বছরের অভিজ্ঞতা ও কিছু বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা।

 

বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী তুলসী মন্দিরের আদর্শ দিক

বাস্তুশাস্ত্রে তুলসীকে সাত্ত্বিক ও ঔষধি উদ্ভিদ হিসেবে ধরা হয়। তাই এটি এমন স্থানে রাখা দরকার, যেখানে সূর্যালোক ও বাতাস পর্যাপ্ত থাকে।

• পূর্ব দিক – তুলসী মন্দির রাখার জন্য সবচেয়ে শুভ দিক হিসেবে মানা হয়।
পূর্ব দিক সূর্যোদয়ের দিক, যা শক্তি, স্বাস্থ্য ও ইতিবাচকতার প্রতীক। সকালে সূর্যের আলো সরাসরি পড়ে বলে তুলসী ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।

• উত্তর বা উত্তর–পূর্ব দিক – এই দিককে বাস্তুশাস্ত্রে ঈশান কোণ বলা হয়। এটি জল, পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে যুক্ত। তুলসী এখানে রাখলে ঘরের শান্ত পরিবেশ বজায় থাকে।

 

যে দিকগুলো এড়িয়ে চলা ভালো বলা হয়

বাস্তুশাস্ত্র মতে—

• দক্ষিণ দিক – এই দিককে যম ও ভারী শক্তির দিক বলা হয়, তাই তুলসীর মতো পবিত্র গাছ এখানে রাখা শুভ নয়।
• দক্ষিণ–পশ্চিম দিক – এটি স্থায়িত্ব ও ভারের দিক। এখানে তুলসী রাখলে গাছ ভালো না-ও থাকতে পারে বলে বিশ্বাস।
• বাথরুম বা ড্রেনের কাছে – পবিত্রতার দিক থেকে অনুচিত।

 

ঘরোয়া ও ধর্মীয় বিশ্বাস

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী—

• তুলসী মন্দির বাড়ির সামনে বা উঠোনে থাকলে লক্ষ্মীর কৃপা থাকে
• তুলসীর পাশে সন্ধ্যাবেলা প্রদীপ জ্বালালে ঘরে শান্তি আসে
• তুলসী মন্দির পরিষ্কার রাখা মানে ঘরের শক্তি পরিষ্কার রাখা

এই বিশ্বাসগুলো মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা গড়ে তোলে।

 

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

বৈজ্ঞানিকভাবে তুলসী—

• অক্সিজেন সমৃদ্ধ বাতাস ছাড়ে
• জীবাণুনাশক গুণ রয়েছে
• সূর্যালোক পেলে ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়

পূর্ব ও উত্তর–পূর্ব দিকে রাখলে গাছ বেশি আলো ও বাতাস পায়, যা এর স্বাস্থ্য ও কার্যকারিতা বাড়ায়।

 

তুলসী মন্দির কোথায় রাখা ঠিক নয়

• রান্নাঘরের একদম ভেতরে
• শোবার ঘরে
• ছাদের ছায়াযুক্ত, অন্ধকার জায়গায়
• ময়লা জমে এমন স্থানে

এই জায়গাগুলো তুলসীর জন্য অনুপযুক্ত বলে ধরা হয়।

তুলসী মন্দির ঘরের পূর্ব বা উত্তর–পূর্ব দিকে রাখা সবচেয়ে শুভ বলে মানা হয়। এর পেছনে রয়েছে বাস্তুশাস্ত্রের শক্তিপ্রবাহের ধারণা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং বৈজ্ঞানিক আলো–বাতাসের প্রয়োজন।
এই নিয়ম মূলত মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বসবাস করতে শেখায়।

নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।

 


About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube

Skip to toolbar