...

বাড়ির কাছে জায়গা থাকলে এই গাছগুলি অবশ্যই লাগান: স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও বাস্তুগত উপকার

Plant Trees 01 1403070001

Plant Trees 01 1403070001

 

যদি বাড়ির আশেপাশে একটু ফাঁকা জায়গা থাকে, তাহলে সেখানে কিছু নির্দিষ্ট গাছ লাগানো শুধু পরিবেশ সুন্দর করে না, বরং আমাদের শরীর, মন এবং বাড়ির সামগ্রিক পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক সময় এগুলোকে কুসংস্কার বা শুধুই বাস্তু ভাবা হয়, কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ।
নিচে এমন কয়েকটি গাছের কথা বলা হলো, যেগুলো বাড়ির কাছে লাগালে বহু দিক থেকে উপকার পাওয়া যায়।

নিম গাছ

Azadirachta indica 600x600 crop center

নিম গাছ প্রাকৃতিকভাবে বাতাসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত, নিম পাতায় থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান বাতাসে থাকা ক্ষতিকর জীবাণুর পরিমাণ কমাতে পারে।

উপকারিতা:

বাতাসে জীবাণু ও দূষণ কমায়
মশা ও পোকামাকড় দূরে রাখতে সাহায্য করে
ত্বক ও শ্বাসতন্ত্রের জন্য উপকারী পরিবেশ তৈরি করে
বাস্তু মতে বাড়ির চারপাশে পজিটিভ এনার্জি বজায় রাখে

তুলসী গাছ

IndianHolyBasil DesiTulsi Seeds 59025dc2 ebd4 480c a58f 70c731b9d652

তুলসী শুধু ঘরোয়া গাছ নয়, এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক এয়ার পিউরিফায়ার হিসেবেও কাজ করে। তুলসী গাছ অক্সিজেন উৎপাদনে সাহায্য করে এবং পরিবেশকে সতেজ রাখে।

উপকারিতা:

বাতাস বিশুদ্ধ করে
শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশির প্রবণতা কমাতে সহায়ক
মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে
বাস্তু অনুযায়ী ঘরের পরিবেশ ভারসাম্যপূর্ণ রাখে

অ্যালোভেরা

Aloes vera Nouvelle feuille d1877dd8 ff5a 42b5 b67c 87c4969ddf03

অ্যালোভেরা কম জায়গায় সহজেই বড় হয় এবং ঘরের কাছাকাছি রাখার জন্য আদর্শ। এটি রাতেও অক্সিজেন ছাড়ে, যা ঘুমের জন্য উপকারী।

উপকারিতা:

রাতে অক্সিজেন ছাড়ে
ত্বক ও হজমে উপকারী
ঘরের ভেতর বা বারান্দায় সহজে রাখা যায়
কম যত্নে বেশি উপকার দেয়

মানি প্ল্যান্ট

Money Plants Blog Cover 49e14907 c440 4820 950f 9bf6c9047abe

অনেকে একে শুধু সাজসজ্জার গাছ মনে করেন, কিন্তু মানি প্ল্যান্ট বাতাস থেকে ক্ষতিকর গ্যাস শোষণ করতে সক্ষম।

উপকারিতা:

ঘরের বাতাসের মান উন্নত করে
মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক
বাস্তু মতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে
অল্প আলোতেও ভালোভাবে বেড়ে ওঠে

এমনকি আপনি ঘরের ভিতরের রাখতে পারেন এই গাছ।

লেবু গাছ

Images (1) (17)

লেবু গাছ শুধু ফলের জন্য নয়, এর পাতা ও গন্ধ পরিবেশকে সতেজ রাখে।

উপকারিতা:

প্রাকৃতিকভাবে পোকামাকড় দূরে রাখে
ভিটামিন C-এর সহজ উৎস
বাড়ির আশেপাশের বাতাসে সতেজতা আনে
ছোট জায়গায়ও লাগানো যায়

আম গাছ (যদি জায়গা বড় হয়)

Mango tree 2c637b5b b66f 4bd6 a9c7 d2777f240453

যাদের বাড়ির পাশে একটু বড় জায়গা আছে, তাদের জন্য আম গাছ খুবই উপকারী।

উপকারিতা:

প্রচুর অক্সিজেন উৎপাদন করে
ছায়া দিয়ে বাড়ির তাপমাত্রা কমায়
মানসিক শান্তি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ায়
পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখে

বাড়ির কাছে গাছ লাগানো শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং মানসিক শান্তির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। সঠিক গাছ নির্বাচন করলে বাড়ির বাতাস পরিষ্কার থাকে, স্ট্রেস কমে এবং দৈনন্দিন জীবন আরও সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়।
অল্প জায়গা থাকলেও উপযুক্ত গাছ বেছে নিলে আপনি সহজেই এই উপকারগুলো পেতে পারেন। প্রকৃতির সাথে এই ছোট সংযোগই একটি সুস্থ জীবনের বড় চাবিকাঠি।

নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।

 


About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube

খাবার খাওয়ার সময় কথা বলা কেন মানা করা হয়: কুসংস্কার নাকি বাস্তবিক?

1767025936028

1767025936028

অনেক বাড়িতেই ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়—“খাওয়ার সময় কথা বলিস না”। অনেকেই এটাকে নিছক কুসংস্কার বা বাড়াবাড়ি নিয়ম বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এই নিয়মের পেছনে আছে স্বাস্থ্য, শিষ্টাচার এবং মনস্তাত্ত্বিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
এই নিয়মটি আসলে মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং সুস্থ ও সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য তৈরি হয়েছিল।

হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক

খাবার খাওয়ার সময় আমাদের শরীর সম্পূর্ণভাবে হজম প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দেয়।
এই সময় বেশি কথা বললে—
খাবার ঠিকভাবে চিবানো হয় না,
মুখে অতিরিক্ত বাতাস ঢুকে যায়,
বদহজম, গ্যাস বা অস্বস্তি তৈরি হয়। আগেকার মানুষ এগুলো বৈজ্ঞানিক ভাষায় না বুঝলেও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বুঝেছিলেন যে চুপচাপ, মন দিয়ে খেলে শরীর ভালো থাকে।

শ্বাস ও গিলবার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়

খাওয়া ও কথা বলা—দুটোই মুখ ও শ্বাসনালীর সঙ্গে যুক্ত।
একসাথে দুটো করলে—
খাবার গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি,
কাশির সমস্যা,
শিশুদের ক্ষেত্রে শ্বাসনালিতে খাবার যাওয়ার আশঙ্কা এই কারণেই বড়রা খাবারের সময় নীরব থাকতে বলতেন।

মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা

খাবার শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়, এটি শরীরের জন্য জ্বালানি।
খাওয়ার সময় কথা বললে—
কতটা খাওয়া হচ্ছে তার হিসেব থাকে না,
বেশি বা কম খাওয়া হয়,
তৃপ্তির অনুভূতি কমে যায়।
এই নিয়ম মানুষকে mindful eating শেখাত, যদিও তখন এই শব্দটি ব্যবহৃত হতো না।

সামাজিক শিষ্টাচার শেখানোর উপায়

আগেকার দিনে একসাথে বসে খাওয়া ছিল পারিবারিক শৃঙ্খলার অংশ।
খাওয়ার সময় অতিরিক্ত কথা বলা মানে—
খাবারের প্রতি অসম্মান,
অন্যদের অস্বস্তি,
বিশৃঙ্খল পরিবেশ,
এই নিয়মটি আসলে মানুষকে ভদ্রতা ও সংযম শেখাত।

শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খাওয়ার সময় কথা বললে শিশুর—
খাবার গলায় আটকে যাওয়া,
হঠাৎ কাশি বা দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি,
এই ঝুঁকি কমাতেই বড়রা কড়া ভাবে এই নিয়ম মানাতে চাইতেন।

“খাবার খাওয়ার সময় কথা বলো না”—এই কথাটি কুসংস্কার নয়।
এটি আসলে—
স্বাস্থ্য সচেতনতা,
হজমের সুরক্ষা,
সামাজিক শিষ্টাচার,
শিশুদের নিরাপত্তা।
এই চারটি বিষয়কে একসাথে ধরে রাখার একটি সহজ নিয়ম।
আগের প্রজন্ম বিজ্ঞানের ভাষা জানত না, কিন্তু জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তারা এই নিয়মগুলো তৈরি করেছিল—যা আজও প্রাসঙ্গিক।

 

নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।

 

 


About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube

প্রদীপ কোন দিকে মুখ করে জ্বালানো উচিত?

Eisamay 2025 10 15 x1yzdumj Diya Lit Rituals

Eisamay 2025 10 15 x1yzdumj Diya Lit Rituals

 

প্রদীপ জ্বালানো আমাদের ঘরের একেবারে নিত্যদিনের রীতি। সকাল–সন্ধ্যা ঠাকুরঘরে, বিশেষ দিন, পূজা-পার্বণ কিংবা শুভ কাজে প্রদীপ জ্বালানো হয়। কিন্তু খুব কম মানুষই ভেবে দেখে—প্রদীপ কোন দিকে মুখ করে জ্বালানো উচিত এবং কেন এই বিষয়টাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের বিশ্বাস, বাস্তুশাস্ত্র ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে।

বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী প্রদীপের সঠিক দিক

বাস্তুশাস্ত্রে আগুন বা আলোকে শক্তির প্রতীক বলা হয়। তাই প্রদীপ জ্বালানোর দিক খুব গুরুত্বপূর্ণ।
• পূর্ব দিকে মুখ করে প্রদীপ জ্বালানো সবচেয়ে শুভ বলা হয়
সূর্যোদয়ের দিক হওয়ায় পূর্ব দিক শক্তি, জ্ঞান ও নতুন সূচনার প্রতীক
• উত্তর বা উত্তর–পূর্ব দিকও শুভ
এই দিককে ঈশান কোণ বলা হয়, যা পবিত্রতা ও মানসিক শান্তির সঙ্গে যুক্ত
এই দুই দিকে প্রদীপ জ্বালালে ঘরের শক্তির ভারসাম্য ভালো থাকে বলে বিশ্বাস।

কোন দিক এড়িয়ে চলা ভালো

বাস্তুশাস্ত্র মতে—
• দক্ষিণ দিকে মুখ করে প্রদীপ জ্বালানো সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়
এই দিককে ভারী ও স্থির শক্তির দিক বলা হয়
• বাতাসের ঠিক বিপরীতে প্রদীপ রাখা উচিত নয়
কারণ বারবার নিভে যাওয়া অশুভ বলে ধরা হয়

ঘরোয়া ও ধর্মীয় বিশ্বাস

লোকবিশ্বাসে বলা হয়—
• প্রদীপ মানে অন্ধকার দূর করা
• ভুল দিকে প্রদীপ জ্বালালে পূজার ফল পুরো আসে না
• সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালালে ঘরে শান্তি ও শুভ শক্তি প্রবেশ করে
এই বিশ্বাসের মাধ্যমে মানুষকে নিয়মিত আলো জ্বালানো ও ঘর পরিচ্ছন্ন রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

বিজ্ঞান এই রীতিকে বাস্তব দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করে—
• পূর্ব বা উত্তর দিকে সাধারণত বাতাসের প্রবাহ কম থাকে, ফলে প্রদীপ স্থিরভাবে জ্বলে
• আলো মানুষের মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে
• সন্ধ্যার নরম আলো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে
এই কারণে প্রদীপ জ্বালানো মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই শান্ত করে।

মনস্তাত্ত্বিক দিক

প্রদীপ জ্বালানো একটি মনোযোগী কাজ।
• দিনের ব্যস্ততা থেকে মনকে আলাদা করে
• নিজের মধ্যে স্থিরতা আনে
• প্রার্থনার সময় মন একাগ্র হয়
এই মানসিক অবস্থাই মানুষ “শুভ ফল” হিসেবে অনুভব করে।

প্রদীপ জ্বালানোর সময় আর কী বিষয় খেয়াল রাখা হয়?

• প্রদীপ পরিষ্কার জায়গায় রাখা
• ভাঙা বা নোংরা প্রদীপ ব্যবহার না করা
• সন্ধ্যার পর প্রদীপ নিভিয়ে না ফেলা
• তেল বা ঘি শেষ হয়ে গেলে জোর করে জ্বালানো না রাখা
এসব নিয়ম ঘরোয়া শৃঙ্খলারই অংশ।

 

প্রদীপ কোন দিকে মুখ করে জ্বালানো উচিত—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু কুসংস্কার নয়।
এটি বাস্তুশাস্ত্রের শক্তির ধারণা, পরিবেশগত সুবিধা এবং মানুষের মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে প্রদীপ জ্বালানো মানে— ঘরে আলো আনা, মনে শান্তি আনা এবং প্রতিদিনের জীবনে একটু থেমে নিজের সঙ্গে সময় কাটানো।

নিজের সংস্কৃতি নিজের ঘর।
চোখ রাখুন ব্লগে “শ্রীডক্টর”।

 


About Sri Yoga Center: A charitable trust in Kunarpur, Bankura devoted to Yoga, Ayurveda, Indology, and cultural research.
Know more
Official Blog
YouTube

Skip to toolbar