Posted on Leave a comment

Veda finds Snake in the Lights

We know the light is an electromagnetic wave. It has both electric property and magnetic property. The wave propagation is Serpent. Two Energies propagate in two different plane like TWO SNAKES.

http://www.astronomynotes.com/light/s3.htm#:~:text=Electric%20and%20magnetic%20fields%20oscillate,same%20thing%20called%20electromagnetic%20radiation.

Here I am showing from the Veda ,we is adoring the snakes.

Source is KRISHNA JUYUR VEDA , 4th KANDA, 2ND PROPATHAK, PAGE -531.

This snake is present in the light and it is coming from the Sun through the light and it is also present in the waves and current of the water, it is also present in the brain and mind , in the power and our life force. so now think,this snake is not like any reptiles as you’re looking. They have extended their thoughts in the power and energy and which is a scientific fact.
This is the way of our Indian worshipping. We are worshipping the Supreme in His or Her or Both infinite Souls, Energies , ways of expression and materials, Not THAT OBJECT ONLY.

Source from the KRISHNA Yaju
Posted on Leave a comment

ছট পূজা

রামায়ণে ছট্ পুজোর উল্লেখ পাওয়া যায়। রাম ও সীতা যখন ১৪ বছর বনবাস শেষে রাবণ বধ করে অযোধ্যা ফিরে আসেন। তখন রাবন বধের পাপ থেকে মুক্তি পাবার আশায় ঋষি মুনিদের পরামর্শ নেন। মুনি ঋষিদের কথা অনুযায়ী রাম সীতা তখন যজ্ঞের আয়োজন করেন। এবং সেই যজ্ঞ সম্পূর্ণ করতে মুদগল ঋষিকে আহ্বান করা হয়। মুদগল ঋষি তখন গঙ্গা জল ছিটিয়ে সীতাকে পবিত্র করলেন এবং রাবণ বধ এই পাপ থেকে মুক্তি পাবার জন্য কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে সীতাদেবীকে সূর্য দেবের উপাসনা করার আদেশ দিলেন। ঋষি কথামতো সীতা তখন ছয় দিন সূর্য দেবতার পূজা করলেন। আর সেসময় থেকেই এই পুজোর সূচনা হয়।
মহাভারতেও ছট্ পুজোর উল্লেখ পাওয়া যায়। পুরাকালে রাজা ভোজের দুহিতা কুন্তী কুমারী অবস্থায় থাকাকালীন ভোজের গৃহে ঋষি দুৰ্বাসা অসুস্থ অবস্থায় উপস্হিত হয়। ঋষি দুৰ্বাসাকে শুশ্রুষা করার দায়িত্ব ভোজ কুন্তীকে দেয়। কুন্তীর শুশ্ৰুষাতে সন্তুষ্ট হৈয়া ঋষি দুৰ্বাসা কুন্তীকে এক বীজ মন্ত্র প্রদান করেন। সেই বীজ মন্ত্র পেয়ে কুন্তীর মনে কৌতুহল জন্মায় এই বীজ মন্ত্র থেকে কি ফললাভ হয় তা দেখার। ঋষি দুর্বাসা ভোজের রাজ্য থেকে প্রস্থানের পর একদিন প্রাত স্মরণে সূর্যদেবের আরাধনা উপাসনাতে সেই বীজ মন্ত্রটি প্রয়োগ করেন। কুন্তীর বীজ মন্ত্রর আরাধনা উপাসনাতে সন্তুষ্ট হৈয়া সূৰ্যদেব কুন্তীকে এক পুত্র সন্তান “দানবীর কৰ্ণ” দিলেন। মহাভারতে কুন্তি দ্বারা সূর্যের আরাধনা এবং কর্ণের জন্ম থেকেই এই পর্বের সূচনা। আবার পাণ্ডবরা যখন পাশা খেলায় নিজেদের সমস্ত রাজপাট হারিয়ে ফেলে তখন দ্রৌপদী ছট্ ব্রত করেন। দ্রৌপদীর মনোস্কামনা পুরণ হয় এবং পাণ্ডবরা তাঁদের রাজপাট ফিরে পান।
বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়, যেখানে বিহারী বংশোদ্ভুতদের বাস, সেখানেই ধুমধাম করে পালিত হয় এই উৎসব। এছাড়া উত্তরপ্রদেশেও একটি বড় অংশে এই পুজোর প্রচলন রয়েছে। মোটামুটিভাবে এই অঞ্চলটিই মহাভারতের যুগে ‘অঙ্গদেশ’ বলে পরিচিত ছিল। এই অঙ্গদেশ ছিল কৌরবদের বা হস্তিনাপুর রাজবংশের অধীন। পাণ্ডব ও কৌরবদের শস্ত্র প্রতিযোগিতায় হঠাৎই আমন্ত্রণ ছাড়াই এসে পড়েন সুতপুত্র কর্ণ এবং এসেই অর্জুনকে প্রতিযোগিতায় আহ্বান জানান। কিন্তু কর্ণ তো আর রাজপুরুষ নন, তাই সেই প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে প্রবল অপমান করেন ভীম। এই সময় সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন দুর্যোধন। কর্ণের তেজ ও যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শিতা দেখে তাঁকে দলে টানতে, সেই সময় তিনি কর্ণের জীবনের সবচেয়ে বড় উপকারটি করেন। তাঁকে অঙ্গদেশ দান করে, সেখানকার রাজা বলে ঘোষণা করেন। তখনও কিন্তু কেউ জানে না যে কর্ণ আসলে সূর্যের ঔরসজাত কুন্তীপুত্র। সেই প্রতিযোগিতার আসরে কুন্তী কর্ণকে চিনতে পারলেও কোন কিছু বলেননি। মুখ খুলেছিলেন সেই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগে, পাণ্ডবদের বাঁচাতে যখন নিজে কর্ণের কাছে প্রস্তাব রাখেন পাণ্ডবপক্ষে চলে আসার জন্য।
তিনি যে সূর্যদেবের পুত্র, সেটা না জানলেও কর্ণ কিন্তু প্রথম থেকেই সূর্যের উপাসক ছিলেন। প্রচলিত আছে, অঙ্গদেশের রাজা হওয়ার পরে সেই অঞ্চলে ধুমধাম করে সূর্যদেবের পুজো ও উৎসবের প্রচলন করেন কর্ণ এবং সেই উৎসবই কয়েক হাজার বছর পেরিয়ে টিকে রয়েছে ছট্ পুজো হিসেবে। মহাভারতের গল্প অনুযায়ী কর্ণের শরীরে সব সময় থাকত একটি কবচ ও কুণ্ডল যা ছিল সূর্যদেবের আশীর্বাদ। ওই কবচ-কুণ্ডল থাকার জন্যেই তাঁকে বধ করা ছিল অসম্ভব। কৃষ্ণের পরামর্শ অনুযায়ী কর্ণকে দলে টানতে না পেরে, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগে সেই কবচ-কুণ্ডল ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে চেয়ে নিয়েছিলেন ইন্দ্র। ধর্মপ্রাণ ও দাতা বলে পরিচিত কর্ণ সেই অনুরোধ ফেরাতে পারেননি। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে এর পর তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু রাজা হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তাই হয়তো তাঁর মৃত্যুর পরেও অঙ্গদেশের মানুষ ভক্তিভরে সূর্যষষ্ঠী ও ছট্ পুজো পালন করে এসেছেন এবং এক প্রজন্ম থেকে আর এক প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়েছে এই উৎসবের মাহাত্ম্য।
ছট্ অর্থাৎ ছটা বা রশ্মির পূজা। এই রশ্মি সূর্য থেকেই পৃথিবীর বুকে আসে। সুতরাং এই পূজা আসলে সূর্যদেবের পূজা। মনে করা হয় ছট্ দেবী সূর্যের বোন। তাঁকে সন্তুষ্ট করার জন্যই সূর্যের আরাধনা করা হয়। প্রত্যক্ষভাবে ‘ছট;-এর পূজা হলেও এই পূজার সঙ্গে জড়িত আছেন স্বয়ং সূর্যদেব, আছেন মা গঙ্গা এবং দেবী অন্নপূর্ণা।
পৌরাণিক কাহিনীতে রয়েছে — বর্ষার আগমন ঘটেছে। কিন্তু বৃষ্টি তেমন হয়নি। চাষিদের মাথায় হাত। মাঠের ফসল মাঠেই মারা যাচ্ছে। মা অন্নপূর্ণা ক্রমশ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে থাকেন। সকল দেবতা মা অন্নপূর্ণার এহেন দুর্দশায় ব্যথিত। ঘরে ঘরে অন্নাভাব হাহাকার ওঠে। সূর্যের তাপ হ্রাস করে বাঁচার জন্য মা অন্নপূর্ণা সূর্যদেবের ধ্যান করতে শুরু করেন। তাতে হিতে বিপরীত হয়। সূর্যের প্রখর ছটায় মা অন্নপূর্ণা দিন দিন শ্রীভ্রষ্টা হয়ে ক্ষীয়মান হতে থাকেন। দেবলোকে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দেবতারা সম্মিলিতভাবে সূর্যদেবের কাছে গেলে তিনি মা অন্নপূর্ণার এই দশার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন এবং বলেন, মা অন্নপূর্ণা যেন গঙ্গাদেবীর আশ্রয় নেন। সূর্যদেব আরও বলেন, অস্তগমনকালে গঙ্গাদেবীর আশ্রয়ে থেকে কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীতে এবং সপ্তমীর উদয়কালে মা অন্নপূর্ণা গঙ্গাদেবীর আশ্রয়ে থেকে উদীয়মান ছটা বা রশ্মিকে দেখে আমার স্তব বা ১২টি নাম উচ্চারণ করলে আমার স্মরণকারীকে সমস্ত পৃথিবী অন্নে পূর্ণ হতে থাকল। মা অন্নপূর্ণা আবার তাঁর শ্রী ফিরে পান। ছট্ পূজা বা ব্রত একাধারে সূর্যদেব, মা অন্নপূর্ণা ও গঙ্গাদেবীর পূজা।
পুরাণে এ-ও উল্লেখ আছে, কার্তিক শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠীতে সূর্যাস্ত এবং সপ্তমীতে সূর্যোদয়ের মধ্যে বেদমাতা গায়েত্রীর জন্ম হয়। প্রকৃতির ষষ্ঠ অংশ থেকে উৎপন্ন শিশুদের রক্ষা করে থাকেন তিনি। তিনি বিষ্ণু দ্বারা রচিত মায়া। শিশু জন্মের ষষ্ঠ দিনে ষষ্ঠী দেবীর পুজো করা হয়। যাতে শিশুর কখনও কোনও প্রকার দুঃখ-কষ্ট না হয়।
প্রিয়ব্রত নামে এক রাজা কে ঘিরে এই পুজোর ব্রতকথা প্রচলিত। রাজা প্রিয়ব্রতের কোনো সন্তান ছিল না। অনেক যাগযজ্ঞ করেও যখন তার পুত্র প্রাপ্তি ঘটে না তখন প্রিয়ব্রত ঋষি কাশ্যপের শরণাপন্ন হন। ঋষি কাশ্যপ অবশেষে প্রিয়ব্রতের পুত্র প্রাপ্তির জন্য বিশালাকার যজ্ঞ করান এবং যজ্ঞের আহুতি থেকে উৎপন্ন ক্ষীর প্রিয়ব্রতের স্ত্রী কে খেতে দেন। যদিও ক্ষীর খেয়ে রীতিমতো সন্তানের জন্ম দেন প্রিয়ব্রতের স্ত্রী। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তাদের সেই সন্তানটিও মৃত হয়। তখন পুত্রের বিয়োগে শোকাহত রাজা প্রিয়ব্রত নিজের জীবন ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। ঠিক এমনি সময় ভগবানের মানস পুত্রী প্রিয়ব্রত কে দর্শন দিয়ে বলেলেন তিনি প্রকৃতির মূল ছয়টি অংশের মধ্যে তার সৃষ্টি। তাকে ষষ্ঠী ও বলা হয়।তিনি যেন তার পুজো দেন তবেই রাজার মনকামনা পূরণ হবে। এইভাবে রাজা সেদিন থেকে ছট্ মাতার পূজো করে দেবীর কৃপায় পুনরায় সুস্থ পুত্র সন্তান লাভ করেন।
দীপাবলির ঠিক ছ-দিন পর পালিত হয় ছট্ উৎসব। ছট্ পুজো হল চার দিনের উৎসব। কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠীতে ছট্ ব্রতর বিধান রয়েছে। সূর্যের এই ব্রতে শক্তি এবং ব্রহ্মার উভয়ের পুজোর ফল পাওয়া যায়। তাই এই ব্রত সূর্যষষ্ঠীর নামে বিখ্যাত। এই ব্রত পালনে সূর্যদেবের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি আমাদের জীবনে যেমন বিঘ্ননাশক, দুঃখনাশক, তেমনি সুখদায়ক ও অর্থ-বৈভবদায়ক।
এই ব্রতে তিন দিনের কঠোর উপবাসের বিধান রয়েছে। চতুর্থীর দিন থেকে এই ব্রত শুরু। এদিন পুরো দিনের উপবাস রাখা হয়। রাতে কাঠ বা মাটির উনুনে পায়েস এবং লুচি রান্না করা হয়। ভোগ লাগিয়ে সেই প্রসাদ খান মহিলারা। যাঁরা এই ব্রত করেন, তাঁদের পঞ্চমীর দিন নুন ছাড়া ভোজন গ্রহণ করেত হয়। ষষ্ঠীতে নির্জলা থেকে ব্রত করতে হয়। ষষ্ঠীতে অস্ত সূর্যের পুজো করে অর্ঘ্য নিবেদন করতে হয়। সপ্তমীর সকালে উদিত সূর্যকে অর্ঘ্য দিতে হয়। তার পর জল খেয়ে উপবাস পুরো করতে হয়। কোনও নদী বা পুকুরে গিয়ে এই পুজো করতে হয়।
এই ব্রতের বিশেষত্ব হল, বাড়ির যে কোনও সদস্য এই ব্রত করতে পারে। ছট্ পুজোর সময়ে বাড়ি স্বচ্ছ রাখা হয়। এই ব্রতের বিশেষ প্রসাদ ঠেকুয়া।
.
সূর্য দেবের প্রণাম মন্ত্র —
ॐ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্।
ধান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতঃ অস্মি দিবাকরম্।।
— জবাপুষ্পের মত লোহিত বর্ণ, অন্ধকারনাশক, মহাদ্যুতিবিশিষ্ট, সর্ব্বপাপবিনাশক কশ্যপপুত্র সূর্যদেবকে (আমি) প্রণাম করি।
.
(সংগৃহীত)
Posted on Leave a comment

দেব সেনাপতি কার্তিক

আজ শুভ কার্তিক পূজার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে কার্তিক পূজার আয়োজন করা হয়। কার্তিক পূজার মাধ্যমে দম্পতিরা সন্তান-সন্তুতি প্রার্থনা করে থাকেন।
কার্তিকের জন্ম বৃত্তান্ত —
মহর্ষি কশ্যপ ও দিতির পুত্র দানব বজ্রাঙ্গ। বজ্রাঙ্গের পত্নী বরাঙ্গী। বজ্রাঙ্গ ও বরাঙ্গীর পুত্রের নাম তারক বা তারকাসুর। বয়ঃপ্রাপ্ত হয়ে তারকাসুর দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠে। দেবতাদের পরাজিত করে সে স্বর্গলোক অধিকার করে এবং দেবতাদের ক্রীতদাসে পরিণত করে। তাঁর অত্যাচারে উৎপীড়িত দেবগণ পরিত্রাণের জন্য পিতামহ ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন।
ব্রহ্মা দেবতাদের অভয় দিয়ে বলেন, শিব ও পার্বতীর যে অপরাজেয় পুত্র জন্মগ্রহণ করবেন তিনি সুরাসুরের অবধ্য তারকাসুরকে নিধন করবেন এবং স্বর্গরাজ্য পুনরায় দেবতাদের হবে। যথাকালে তপস্যানিরত শিবকে স্বামীরূপে পাওয়ার জন্য কঠোর পঞ্চাগ্নি তপস্যানিরতা পার্বতীর বিবাহ হয় এবং শিবতেজে পার্বতীর পুত্র কার্তিকেয়র জন্ম হয়। জন্মের পর ছয়জন কৃত্তিকা-মাতৃকা তাঁকে লালন-পালন করেন।
শিব ও পার্বতীর অমিততেজা এই পুত্র ছয়মুখে ছয় কৃত্তিকার স্তনদুগ্ধ পান করেছিলেন। ছয় মুখের জন্য তাঁর নাম ‘ষড়ানন’ বা ‘ষন্মুখ’। ছয়জন কৃত্তিকা-ধাত্রীজননীর স্তন্যপান করে বর্ধিত হন বলে তাঁর নাম হয় ‘কার্তিকেয়’ বা ‘কার্তিক’। জন্মের ষষ্ঠ দিন দেবসেনাপতিরূপে তাঁর অভিষেক হয় এবং ব্রহ্মার মানসকন্যা দেবসেনার সঙ্গে বিবাহ হয়। সপ্তম দিন তিনি তারকাসুরকে বধ করেন।
জন্মসূত্রে পিতা শিবের বীর্য ও গুণাবলীর যেমন তিনি উত্তরাধিকারী হন, তেমনি মাতা পার্বতীর শৌর্য ও বীর্যের উত্তরাধিকারও তিনি লাভ করেন। তাঁর অপ্রতিরোধ্য পরাক্রম ও দুর্জয় সাহস তাঁকে এনে দেয় দেব-সেনাপতির স্বীকৃতি। রামায়ণ, মহাভারত এবং প্রধান পুরাণগুলিতে কার্তিকের জন্মকথা ও কীর্তিকাহিণী সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে। পুরাণগুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান স্কন্দপুরাণ প্রত্যক্ষত তাঁরই নাম বহন করছে। স্কন্দপুরাণ ভিন্ন অন্যান্য প্রধান যে পুরাণগুলিতে কার্তিকের উপাখ্যান বর্ণিত। সেগুলি হলো : মৎস্যপুরাণ, শিবপুরাণ, বামনপুরাণ, লিঙ্গপুরাণ, বায়ুপুরাণ, পদ্মপুরাণ, ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ, অগ্নিপুরাণ, ব্রহ্মপুরাণ, কূর্মপুরাণ, বরাহপুরাণ, ভবিষ্যপুরাণ, ভাগবতপুরাণ এবং ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ। দেখা যায় উল্লিখিত প্রত্যেক পুরাণেই দেবতা ও অসুরদের প্রচণ্ড সংগ্রাম এবং দেবতাদের পরাজয়ের পটভূমিকায় শিব-পার্বতীর পুত্ররূপে কার্তিকের জন্ম। আবার কার্তিকের জন্ম-উপাখ্যানটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কার্তিকের জন্মের পশ্চাতে ছিল শিব-পার্বতীর কঠোর তপস্যা। সন্তান আসবে পিতা-মাতার সংযম ও তপস্যার সেতুপথে-এটাই প্রাচীন ভারতীয় দাম্পত্য জীবনের মূল দর্শন। কার্তিকের স্ত্রীর নাম দেবসেনা। সেকারণেও তিনি ‘দেবসেনাপতি’ আবার দেবসেনাবাহিনীর নায়কত্বের জন্য তিনি ‘দেবসেনাপতি’।
কার্তিকের বর্ণনা —
কার্তিকের জন্ম অমাবস্যা তিথিতে। পরবর্তী পাঁচদিনে তাঁর প্রাপ্তবয়স্কতা লাভ। ষষ্ঠদিনে তাঁর দেবসেনাপতিত্বে অভিষেক এবং দেবসেনার আধিপত্য লাভ, যুদ্ধাভিমান ও বিজয়। একমতে তাঁর পত্নীর নাম ‘দেবসেনা’। তিনি ব্রহ্মার কন্যা। শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতেই দেবসেনার সঙ্গে কার্তিকের বিবাহ। দেবসেনার অপর নাম ষষ্ঠী। শুক্লা ষষ্ঠী তিথি বিজয়াদি সকল অভীষ্টদায়িনী। বৌধায়ন গৃহ্যসূত্রে স্কন্দের একটি নামও ‘ষষ্ঠী’। লক্ষণীয়, আশ্বিনের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতেই দেবী দুর্গার বোধন অর্থাৎ দুর্গাপূজার সূচনা।
এর তাৎপর্য এই যে, ক্ষাত্রশক্তির সঙ্গে যখন ব্রহ্মতেজ সমন্বিত হয়, তখনি বিজয়াদি সর্বাভীষ্ট মানুষের করতলগত হয়। তখনি মানুষের মধ্যে শিবশক্তি অর্থাৎ শুভশক্তির উদ্বোধন ঘটে। সেই উদ্বুদ্ধ দেবাত্মশক্তির কাছে অসুরের পরাজয় অনিবার্য। কারণ, সমস্ত দেবাত্মশক্তির ওপর যাঁর আধ্যিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত, ত্রিভুবনের সমস্ত প্রতিরোধই তাঁর সম্মুখে চূর্ণবিচূর্ণ হতে বাধ্য। সেই আধ্যাত্মিক অর্থে যিনি দেবসেনাপতি, তাঁর কণ্ঠে বিধাতাকন্যার জয়মাল্য দোলে-তিনিই বিধাতাকন্যাকে লাভ করেন। বিধাতা কন্যার নাম ‘দেবসেনা’।
‘দেবসেনা’র অর্থ দেবশক্তি। অর্থাৎ দেবতাদের সম্মিলিত শক্তি কার্তিকের অধীন। সেজন্য তিনি দেবসেনাপতিরূপে স্বীকৃত। সম্মিলিত দেবাত্মশক্তিকে যথার্থভাবে ব্যবহার ও পরিচালনা করে সভ্যতাকে সুরক্ষিত রাখার গুরুদায়িত্ব তাঁর স্কন্ধে অর্পিত। দেবী দুর্গার পরিবার সমগ্র বিশ্বচরাচর। তাঁর স্নেহাঞ্চলে পশু, পাখি, সরীসৃপ, উদ্ভিদ, মানুষ-সকলেই আচ্ছাদিত। সেই বিশ্ব-পরিবার রক্ষার দায়িত্বে দেবীর পুত্র কার্তিকেয় নিযুক্ত। এই দায়িত্ব তিনি লাভ করেছেন দেবীর পুত্রের অধিকারে নয়, তাঁর আপন যোগ্যতায়।
তেজস্বী, ক্ষিপ্রকর্মা, সদা উদ্যমী, অকুতোভয়, অপরাজেয় ও সুদর্শন কার্তিকেয় শুধু স্বর্গ বা দেবলোকের সেনাপতি নন, সমগ্র মানবলোকেরও ঊর্ধ্বায়ত বীর্য ও শক্তির তিনি প্রতীক-বিগ্রহ। বস্তুত, কার্তিকের পরিচয় একজন বিশেষ দেবতারূপে নির্দিষ্ট হলেও তাঁর মধ্যে অন্তত রুদ্র, অগ্নি, বায়ু, ইন্দ্র ও বিষ্ণু-এই প্রধান বৈদিক পঞ্চদেবতার সংমিশ্রণ ঘটেছে। বৈদিক দেবভাবনা ভিন্ন পৌরাণিক, তান্ত্রিক ও লৌকিক নানা দেবভাবনা এবং দেবতার মানবিকীকরণ-অভীপ্সার সংমিশ্রণে কার্তিকের উপাসনা ও রূপভাবনা সমৃদ্ধ হয়েছে। সম্ভবত এই প্রক্রিয়া পূর্ণ পরিণতি প্রাপ্ত হয় গুপ্ত যুগে-খ্রিস্টীয় চতুর্থ-পঞ্চম শতকে। তবে তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ, নারায়ণ উপনিষদ্, বৌধায়ন ধর্মসূত্র, মহাভারত, পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র প্রভৃতি সাক্ষ্য থেকে জানা যায় যে, পৃথক দেবতা হিসাবে কার্তিক পূজিত হতে শুরু করেছেন খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর বহু আগে থেকেই।
কার্তিকের বাহন —
কার্তিকের বাহন ময়ূর। আবার কিছু মতে কুক্কুট বা মোরগও কার্তিকের বাহন। বামনপুরাণের মতে দেবসেনাপত্যে অভিষিক্ত হওয়ার পর গরুড় কার্তিককে বাহন হিসাবে ময়ূরকে প্রদান করেছিলেন। বরাহপুরাণের মতে ঐ সময় পিতা শিব কার্তিকেয়কে ক্রীড়ার জন্য কুক্কুট উপহার দিয়েছিলেন। মহাভারতের মতে অগ্নিদেব এবং মৎস্যপুরাণের মতে বিশ্বকর্মা কার্তিকেয়কে কুক্কুট উপহার দিয়েছিলেন। তবে মহাভারত ও পুরাণের বর্ণনায়, পুরাণের প্রতিমালক্ষণ-বি
বৃতিতে, তন্ত্রের ধ্যানমন্ত্রে এবং প্রাচীন মুদ্রায় প্রধানত কার্তিককে ময়ূরবাহনরূপেই দেখানো হয়েছে। এমনকি পূর্বোক্ত অথর্ববেদের পরিশিষ্ট স্কন্দযাগেও কার্তিকের ময়ূরবাহনত্ব উল্লিখিত হয়েছে। কুক্কুট অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্তিকের হস্তধৃতরূপেই বর্ণিত, যাতে বোঝা যায় কুক্কুট তরুন শিবপুত্রের একটি প্রিয় ক্রীড়নক। প্রাণিতত্ত্ববিদগণের মতে, ময়ূর ও কুক্কুট উভয়েই সমবর্গীয় পক্ষী। যাহোক, পরিবার-সমন্বিতা মহিষাসুরমর্দিনীর সঙ্গে কার্তিককে আমরা ময়ূরবাহনরূপে দেখতে অভ্যস্ত। এমনকি মালয়েশিয়া এবং জাপানে কার্তিকের যে মূর্তি ও মন্দির দেখা যায় সেখানেও তিনি ময়ূরবাহন।
কেন কার্তিকের ময়ূরবাহন ?
ময়ূরের পাঁচটি প্রধান বৈশিষ্ট্য – সৌন্দর্য, যৌবনদৃপ্ততা, বীর্য, যোদ্ধৃত্ব এবং প্রাতরুত্থান। সৌন্দর্য, যৌবনদৃপ্ততা, বীর্য, যোদ্ধৃত্ব জন্য ময়ূর পক্ষীকুলে নৃপতিতুল্য। ভারতের জাতীয় পক্ষীও ময়ূর। দেবীর চার সন্তানের মধ্যে কার্তিকের সঙ্গে সর্বাংশেই তার সর্বাপেক্ষা বেশি সাদৃশ্য। দেবীর বাহন যেমন পশুরাজ, তাঁর পুত্রের বাহন তেমনি পক্ষীরাজ। বিষধর সর্প ময়ূরের আক্রমণ-নৈপুণ্য এবং পরাক্রমে শুধু যে পর্যুদস্ত হয় তাই নয়, একেবারে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ময়ূরের কেকাধ্বনি নিশাবসানের সঙ্কেত ঘোষণা করে। তার প্রাতরুত্থান-অভ্যাস তার অনলসতা, অতন্দ্র সতর্কতা এবং জাড্যহীন তৎপরতার পরিচায়ক। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ময়ূরের উল্লিখিত পাঁচটি বৈশিষ্ট্য কুক্কুটের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য।
সমগ্র ত্রিভুবনের সুরক্ষার দায়িত্ব যাঁর স্কন্ধে অর্পিত সেই স্কন্দ-কার্তিকেয়ের বাহনের নিকট তো এই গুণগুলিই সর্বাগ্রে প্রকাশিত। আলস্য, তন্দ্রা, নিদ্রা, জড়তা, দীর্ঘসূত্রতা, অসতর্কতা ও অসাবধানতাকে নির্মমভাবে পদানত করতে না পারলে এবং যৌবনোচিত উদ্যম, যোদ্ধৃত্ব, বীর্য ও শক্তি প্রকাশ না করলে কি স্কন্দ-কার্তিকেয় দেবসেনাপতির মর্যাদা লাভ করতে পারতেন, না ত্রিলোকজয়ী তারকাসুরকে পরাভূত ও বিনাশ করতে পারতেন ? কী সংসারজীবনে, কী সাধন-জীবনে, কী কর্মজীবনে সার্থকতা নিহিত ঐ দুর্বলতাসমূহের দমনের এবং ঐ শক্তি প্রকাশের ওপর।
ঐ দমনের পরাকাষ্ঠা, ঐ শক্তি প্রকাশ তাঁর জীবন ও কর্মে দেখিয়েছিলেন বলেই দেবাসুর সংগ্রামে স্কন্দ-কার্তিকেয় চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করেছিলেন। ময়ূর বিষধর সর্পকুলকে ধ্বংস করে আমাদের জীবনকে নিরুদ্বেগ করে। কার্তিকও সভ্যতার শত্রু অসুরকুলকে ধ্বংস করে সভ্যতার পরিত্রাতার ভূমিকায় একদা অবতীর্ণ হয়েছিলেন। জগতের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে কার্তিকেয় ও তাঁর বাহন ময়ূরের গুণাবলীর তাৎপর্য আমাদের বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে।
সর্পের মতো ক্রূর ও খল মানুষেরা সভ্যতার শত্রু। এই সুন্দর পৃথিবীকে তারা প্রতিমুহূর্তে তাদের বিষাক্ত উপস্থিতিতে কলুষিত করছে। তাদের অবস্থান পৃথিবীর বাসযোগ্যতাকে বিনষ্ট করছে। পৃথিবীকে এই সর্পস্বভাব মানুষের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হলে প্রয়োজন সর্পহন্তা ময়ূরের মতো বীর্য ও যোদ্ধৃত্ব। বস্তুত, সর্পস্বভাব যেমন প্রায় সকল মানুষের মধ্যেই কম-বেশি নিহিত, তেমনি নিহিত ময়ূরস্বভাবও। আমাদের অন্তরস্থিত সর্পস্বভাবকে খর্ব ও ধ্বংস করতে হবে আমাদের অন্তরস্থিত ময়ূরস্বভাবের উদ্বোধনের মাধ্যমে।
ময়ূরের মধ্যে যেমন বীর্য ও যোদ্ধৃত্ব প্রকট, তেমনি প্রকট তার যৌবনদৃপ্ততা এবং সৌন্দর্য। যৌবনের ধর্মই হলো দুরতিক্রম্যকে অতিক্রমের উচ্চাভিলাষ, প্রতিবন্ধকের সম্মুখে নতিস্বীকারের প্রবল অনীহা। যৌবনের বৈশিষ্ট্য গতি-অধরাকে ধরার, দুর্লঙ্ঘ্যকে লঙ্ঘন করার দুর্নিবার আকাক্সক্ষা। আর তার মধ্যেই নিহিত যৌবনের প্রকৃত সৌন্দর্য। জড়তা, তন্দ্রা, আলস্য, নিদ্রা প্রৌঢ়ত্বের লক্ষণ এবং বার্ধক্যের ধর্ম।
যৌবনে যদি ঐগুলি দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে যৌবন রাহুগ্রস্ত হয়েছে, যৌবন তার সৌন্দর্য হারিয়েছে, কুশ্রীতা যৌবনকে গ্রাস করেছে। যৌবন এবং সৌন্দর্য যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। পৃথিবীকে সর্পমুক্ত করা যেমন দুঃসাধ্য, তেমনি দুসাধ্য পৃথিবী থেকে স্বর্পস্বভাব মানুষকে বা মানুষের অন্তরস্থিত স্বর্পস্বভাবকে নির্মূল করা। কিন্তু যৌবনদৃপ্ত ময়ূর যেমন সর্প দেখলেই তার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তীক্ষ্ণ চঞ্চু ও শাণিত নখরের আঘাতে তাকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলে, মানুষের মধ্যে যারা ময়ূরস্বভাব অথবা মানুষের মধ্যস্থিত ময়ূরস্বভাব তেমনি জগতের সর্পস্বভাব মানুষের অথবা মানুষের অন্তরস্থিত সর্পস্বভাবের সঙ্গে চিরন্তন সংগ্রামে লিপ্ত। এই সংগ্রামের মনোবৃত্তিই ময়ূরস্বভাব মানুষের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য।
ময়ূরের পঞ্চম বৈশিষ্ট্য প্রাতরুত্থান। এটি তার স্বভাব। প্রাতরুত্থান স্বভাববিশিষ্ট ময়ূর নিদ্রালসতার কাছে আত্মসমর্পণ করে না। সভ্যতার স্থায়িত্ব, স্বাধীনতার স্থায়িত্ব নির্ভর করে মানুষের অনলস তৎপরতার ওপর। পৃথিবীকে সুন্দর রাখতে হলে, পৃথিবীর বাসযোগ্যতা অটুট রাখতে হলে প্রয়োজন ঐ অনলস তৎপরতার-ঐ অতন্দ্র সতর্কতার। দেবসেনাপতি কার্তিক ও তাঁর বাহন ময়ূরের কল্পনায় আমাদের পূর্বপুরুষগণ সেকথাই বোঝাতে চেয়েছিলেন।
কার্তিক দেবতার ধ্যান —
ॐ কার্তিকেয়ং মহাভাগং ময়ুরোপরিসংস্থিতম্।
তপ্তকাঞ্চনবর্ণাভং শক্তিহস্তং বরপ্রদম্।।
দ্বিভুজং শক্রহন্তারং নানালঙ্কারভূষিতম্।
প্রসন্নবদনং দেবং কুমারং পুত্রদায়কম্।।
অনুবাদ —
কার্তিকদেব মহাভাগ, ময়ূরের উপর তিনি উপবিষ্ট। তপ্ত স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল তাঁর বর্ণ। তাঁর দুটি হাতে শক্তি নামক অস্ত্র। তিনি নানা অংলকারে ভূষিত। তিনি শত্রু হত্যাকারী। প্রসন্ন হাস্যোজ্জ্বল তাঁর মুখ।
প্রণাম মন্ত্র —
ॐ কার্তিকের মহাভাগ দৈত্যদর্পনিসূদন।
প্রণোতোহং মহাবাহো নমস্তে শিখিবাহন।
রুদ্রপুত্র নমস্ত্তভ্যং শক্তিহস্ত বরপ্রদ।
ষান্মাতুর মহাভাগ তারকান্তকর প্রভো।
মহাতপস্বী ভগবান্ পিতুর্মাতুঃ প্রিয় সদা।
দেবানাং যজ্ঞরক্ষার্থং জাতস্ত্বং গিরিশিখরে।
শৈলাত্মজায়াং ভবতে তুভ্যং নিত্যং নমো নমঃ।
অনুবাদ —
হে মহাভাগ, দৈত্যদলনকারী কার্তিকদেব তোমায় প্রণাম করি। হে মহাবাহু, ময়ূর বাহন, তোমাকে নমস্কার। হে রুদ্রের (শিব) পুত্র, শক্তি নামক অস্ত্র তোমার হাতে। তুমি বর প্রদান কর। ছয়। কৃত্তিকা তোমার ধাত্রীমাতা। জনক-জননী প্রিয় হে মহাভাগ, হে ভগবান, তারকাসুর বিনাশক, হে মহাতপস্বী প্রভু তোমাকে প্রণাম। দেবতাদের যজ্ঞ রক্ষার জন্য পর্তবতের চূড়ায় তুমি জন্মগ্রহণ করেছ। হে পর্বতী দেবীর পুত্র তোমাকে সতত প্রণাম করি।
.
(সংগৃহীত)
Posted on Leave a comment

ভূতচতুর্দশী ও ১৪ শাক

ভূত চতুর্দশীতে ১৪ শাকের তালিকা ও তাৎপর্য: এই দিনে কোন রীতি পালন করলে ঘরে আসে সৌভাগ্য
দুর্গাপুজোর পরই লক্ষ্মীপুজো। আর সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আলোর রোশনাইয়ের উৎসব দীপাবলী (Dewali)। বাংলায় কালীপুজোর রাতে অন্ধকারের গ্রাস সরিয়ে ঘরে ঘরে দীপ জ্বেলে দীপাবলী পালনের রীতি প্রচলিত। আর সেই রাতের আগের দিন পালিত হয় ভূত চতুর্দশী। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, এই ভূত চতুর্দশীর তাৎপর্য।

ভূত চতুর্দশী ও ১৪ শাক

মূলত, ভূত চতুর্দশীতে ১৪ শাক ও ১৪ টি প্রদীপ প্রতিটি বাঙালি ঘরেই জ্বালানো হয়। আর এর নেপথ্যে রয়েছে বহু আচার বিচার। তবে তার আগে দেখে নেওয়া যাক কোন কোন ১৪ টি শাক ভূত চতুর্দশীতে খাওয়া হয়। যে ১৪ টি শাক খেয়ে ভূত চতুর্দশী পালিত হয়, সেই ১৪ শাকের নাম হল, ওল , কেঁউ, বেতো , সর্ষে, কালকাসুন্দে, জয়ন্তী , নিম,হেলঞ্চা, শাঞ্চে, পলতা, গুলঞ্চ, ভাঁটপাতা, শুলফা, শুষণী শাক। এই শাক খেয়ে সন্ধ্যেবেলায় ১৪ টি প্রদীপ দিয়ে অন্ধকার বিতাড়নের পূর্বরীতি প্রচলিত রয়েছে বাংলার ঘরে ঘরে।

১৪ শাকের তাৎপর্য

মনে করা হয় , ভূত চতুর্দশীর দিনটিকে ১৪ পুরুষের জন্য উৎসর্গ করা হয়। পূর্বপুরুষরা এমন দিনে মর্ত্যে আসেন বলে বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। প্রচলিত ধ্যানধারণা বলছে, এই ১৪ পুরুষ , জল, মাটি, বাতাস, অগ্নির সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে মিশে রয়েছেন। আর তার জন্যই মাটির কোলে থাকা ১৪ টি বিশেষ শাক খেয়ে এদিন দিনটি ১৪ পুরুষের জন্য উৎসর্গ করা হয়।

১৪ প্রদীপ কেন জ্বালানো হয়?

মূলত, পূর্বপুরুষ বা পূর্বের ১৪ পুরুষের জন্য ভূত চতুর্দশীর দিনটিকে উৎসর্গ করা হয়। আর তাঁদের উদ্দেশেই ১৪টি প্রদীপ সারা ঘরে দেওয়া হয়। অনেকেই এই দীপান্বিতা অমাবস্যায় লক্ষ্মীর আবাহন করে দুরাত্মাকে ঘর ছাড়া করার পুজো করেন।

১৪ শাক ধোয়ার জল কী করতে হয়?

কথিত রয়েছে, যে জল দিয়ে ১৪ শাক ধোয়া হয়, সেই জলকে ঘরের বিভিন্ন দিকে ছিটিয়ে দিলে দুরাত্মা দূর হয়। এর ফলে বহু বাধা বিঘ্ন কেটে ঘরে শান্তি বিরাজ করে। আসে সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি।